চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) অঞ্চলটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে দশমিক ২ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান কার্যালয় ইউরোস্ট্যাটের চূড়ান্ত হিসাবে এ চিত্র উঠে আসে। খবর ইউরো নিউজ।
এর আগে প্রাথমিক পূর্বাভাসে ইউরোজোনের অর্থনীতি দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার কথা বলা হয়। তবে চূড়ান্ত হিসাবে তা আরো অবনতি হয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে যেখানে দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, সেখানে নতুন বছরের শুরুতেই তা উল্টো পথে হাঁটল।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৩ শতাংশে, গত বছর যা ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আস্থা কমে যাওয়া এ সংকোচনের অন্যতম প্রধান কারণ।
ইউরোস্ট্যাটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে আয়ারল্যান্ড থেকে। দেশটির অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ ও গত বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের জিডিপি মূলত বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। মার্কিন শুল্ক এড়াতে কোম্পানিগুলো আগের প্রান্তিকে অতিরিক্ত পণ্য রফতানি করেছিল। ফলে তখন আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি দেখালেও গত প্রান্তিকে তা বড় পতনের রূপ নেয়।
তবে আয়ারল্যান্ডকে বাদ দিলে ইউরোজোনের বাকি বড় দেশগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। গত দুই বছর স্থবির থাকার পর ব্লকটির সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানিতে প্রথম প্রান্তিকে দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইতালির অর্থনীতিও বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে স্পেন, সেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে ফ্রান্সের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে দশমিক ১ শতাংশ ।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, নিট বাণিজ্য কমে যাওয়ায় ইউরোজোনের মোট উৎপাদন দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি আরো দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ইউরোজোনের এ অর্থনৈতিক দুর্বলতার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) তথ্য বলছে, হামলার পর পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০৪ ডলারে উঠে যায়। পরবর্তী সময় ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে এক ধরনের অবরোধ তৈরি হয়।
বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে তেলের দাম এখনো ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
পাশাপাশি কাতারের মতো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন অবকাঠামোয় হামলার কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর ইউরোপের আমদানিকারকরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
অর্থনীতিবিদরা বারবার সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালির সংকট, মার্কিন শুল্কের চাপ ও চীনা পণ্যের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা ইউরোপের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করছে। ফলে ইউরোপের দেশগুলো এখন ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির এক মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।